Showing posts with label জীবন থেকে. Show all posts
Showing posts with label জীবন থেকে. Show all posts

28 August 2011

রুশ ভাষায় পড়াশুনা

প্রথম প্রকাশঃ ২৩/৩/২০০৭


এই সেমিস্টারে প্রতি সপ্তাহে আমাদের দুই দিন রুশ ভাষা ক্লাশ হচ্ছে। যদিও সব সাবজেক্ট রুশ ভাষাতেই পড়তে হয়, তবুও এই দুইদিন ক্লাশে যেতে সব বিদেশী ছাত্রদের খুব অনিহা। কারন বোধহয় দুর্বোধ্য রুশ ব্যাকরন। দেশে যখন বাংলা ব্যাকরন পড়তাম, ভাবতাম এরচেয়ে কঠিন কোন বিষয় বুঝি আর নেই। সেই কারনে সেটা ভাল করে শেখা হয়নি। আমার লেখায় অসংখ্য ভুলে ভরা বানান দেখে সেটা সহজেই অনুমেয়। এখন ভিনদেশী ব্যাকরন শিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে বরং ভাল করে বাংলা ব্যাকরন শেখাটাই উচিৎ ছিল।


তবে ইউনিভার্সিটি চেষ্টা করে বিদেশি স্টুডেন্টদের যতটা সম্ভব আকর্ষনীয় ভাবে তাদের ভাষা শেখানোর। তাই মাঝে মাঝে আমাদের সভিয়েত আমলের সিনেমা দেখান হয়। এবং শেষে ব্যাখ্যা করতে হয় সিনেমার বিষয়। এখন আমরা বিখ্যাত রুশ লেখক “চেখভ্‌” এর “দামা স্‌ সাবাচ্‌কেয়’’ নামের একটি বই পড়ছি। এই বইটির নামের বাংলায় অনুবাদ দাঁড়ায় “কুকুরসহ ভদ্রমহিলা”। এই গল্পের প্রধান চরিত্র একজন ভদ্রমহিলা যার ছোট্ট একটি সাদা কুকুর আছে। বইটি শেষ করে আমরা এই সিনেমা দেখব। “চেখভ্‌” এর গল্প লেখার স্টাইল খুবই আকর্ষনীয়। এত পুরোনো লেখক হলেও তাঁর অত্যাধুনিক মনমানসিকতা অবাক করার মত। রুশ ভাষায় রুশ সাহিত্য পড়ার মজাই আলাদা। অনুবাদ করে কোনো ভাষার সাহিত্যরই আসল স্বাদ পাওয়া যায়না।

“মিক্সড্‌ কালচার, মিক্সড্‌ ফুড”

প্রথম প্রকাশঃ ২১/৩/২০০৭

আমি যে হোস্টেলে থাকি, সেটা আমাদের ইউনিভার্সিটির অন্যান্য হোস্টেলের মত না। তার আগে বলে নেই আমাদের সাধারন হোস্টেলগুলোর প্রত্যেকটির মেইন বিল্ডিং ৫ তালা করে। আর বাঁকী গুলো ১৮ তালা করে। সেগুলোর মধ্যে আবার আমার হোস্টেলটা আবার ভি,আই,পি টাইপের। অর্থাৎ এপার্টমেন্ট সিস্টেম। আমার এপার্টমেন্টে চারটি রুম। তার একটাতে থাকি আমি আর বাঁকীগুলোতে থাকে চায়নীজ, জ্যামাইকা আর কলম্বিয়ার ছেলেরা। আমাদের সবকিছুই আলাদা হলেও কিচেন একটাই। তাই গত তিন বৎসর ধরে একসাথে রান্না করতে করতে তাদের খাবার সম্বন্ধে আমার ভাল ধারনা হয়ে গেছে। এপার্টমেন্টে ঢুকে গন্ধ শুকেই বুঝতে পারি কোনদেশী রান্না হচ্ছে।


দুই রুমে চারজন চায়নীজ স্টুডেন্ট থাকে তাই তাদের প্রসঙ্গে আগে লিখছি। তারা আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশীদের মতই ভাত খায়। সেই সংগে ন্যুডলস্‌, মাংস, সব্জী আর মাঝে মাঝে মাছ। তাদের রান্নার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। খাবার আমাদের মত অতটা সিদ্ধ করেনা। প্রথমে ফ্রাইংপ্যানে তেল খুব গরম করে তাতে ছোট করে কাটা মাংসের টুকরো ছেড়ে ভেজে নেয়। তাতে সামান্য পানি দিয়ে পাঁচ-ছয় মিনিট গরম করে নেয়। তারপর সেই গরম পানিতে সব্জি, লবন আর মিক্সড্‌ মশল্লার গুড়ো দিয়ে আরো পাঁচ মিনিট সিদ্ধ হলেই তাদের রান্না শেষ। তাদের সেই মিক্সড্‌ তরকারি ভাত দিয়ে কিংবা সেই গরম তরকারিতেই ন্যুডলস্‌ ছেড়ে স্যুপের মত করে খায়। আমি নিজের খাবার নিজেই রান্না করি বা কখনও ফ্রেন্ডস্‌রা মিলে একসাথে। মোটামুটি একই উপকরন দিয়ে যদি আমি/আমরা আর চায়নীজরা রান্না শুরু করি, তাহলে আমাদের রান্না অর্ধেক হতে হতে তারা খাওয়া শেষ করে থালা-বাসন ধুয়ে সব কমপ্লিট্‌। বাংলাদেশে যেসব চিয়নীজ হটেল আছে, সেগুলোর খাবারের থেকে এই খাবারের স্বাদ একেবারেই আলাদা। অরিজিনাল চায়নীজ খাবার। আমি তাদের খাবার খেয়ে দেখেছি, স্বাদ আমাদের থেকে সামান্য আলাদা হলেও খারাপ না। এককথায় সুস্বাদু।

এবার আসি জ্যামাইকান্‌দের খাবারের কথায়। তারাও প্রায় সবসময় ভাত খায়। প্লাস্‌ মাংস। আমি তাদেরকে খুব কম সময় মাছ খেতে দেখেছি। রান্না প্রায় আমাদের মতই। তবে খুব ঝাল খায়। মাঝে মাঝে তারা মাংসের সাথে সিদ্ধ আলু আর সিদ্ধ আটা/ময়দা খায়। ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করছি, তারা প্রথমে আটা/ময়দাকে পানি দিয়ে মাখিয়ে মন্ড তৈরী করে। আমরা রুটি বানানোর জন্য যেমনটি করি তেমন। তারপর হাত দিয়ে গোল গোল ছোটো টুকরো করে নেয়। সেই ছোটো টুকরোগুলোকে চ্যাপ্টা করে টগবগে গরম পানিতে ছেড়ে প্রায় একঘন্টা ধরে সিদ্ধ করে। তাদের কাছথেকে শুনেছি যে, এই খাবারে নাকি প্রচুর এনার্জি।

কলম্বিয়ানদের খাবারও প্রায় আমাদের মতই। ভাত আর মাংস। তবে তারা প্রায় সব তরকারীতেই লাল বা সাদা বীন (এক জাতীয় শিমের বিচী) ব্যাবহার করে।

এবার আসি আমার খাবারে। আমি “না ঘরকা না ঘাটকা”। ঐসব মিক্সড্‌ কালচারের খাবার দেখে আমি একধরনের মিক্সড্‌ খাবার তৈরী করি। যদিও ঐ খাবারের প্রায় অনেকটাই বাংলাদেশী খাবারের মত। মেন্যুতে আছে ভাত, মাংস, মাছ আর সব্জী। আর আমার সবচেয়ে খানদানী খাবার হলো আলুভর্তা আর ডিমভাজা। আলু ছোট কুচিকুচি করে কেটে, বেশী করে পেয়াজ আর কাঁচা মরিচ ফালি করে কেটে দিয়ে কেচ্‌কী মাছের চচ্‌চরি খেতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু এই রাশিয়াতে এখনও সেই সুযোগ আসেনি। হয়তো খুব শীঘ্রই আসবে। সেই সুযোগের অপেক্ষায় রইলাম।
[বর্তমান আপডেটঃ সুযোগ এসেছে কিন্তু খুব কম। :)]

20 November 2008

ওয়াহিদ রুম্মন’ এর কলাম

ভের্খ্‌‌নি আর নিঝ্‌নি নিদেলিয়া’এর (রাশিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহ কে ২ ভাগে ভাগ করে পড়ানো হয়। ভেরখ্‌নি নিদেলিয়া-উপরের সপ্তাহ, নিঝ্‌নি নিদেলিয়া-নিচের সপ্তাহ) ফাঁকে পরে জীবনটাই ব্যারা-ছ্যাড়া। এরমধ্যে আবার গত সপ্তাহ থেকে কম্পিউটার নষ্ট। দেশ থেকে পাঠানো পাইরেটেড এক্স. পি. ইন্সটল করতে গিয়ে কম্পিউটারের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। ফ্ল্যাশ ড্রাইভের যুগে বুটেবল ফ্লপিডিস্ক খুঁজতে শেষে ডিস্ক কোম্পানীতে যেতে হয় কি-না কে জানে। কিছু বিদেশী বন্ধুর আশ্বাসে এখনো অপেক্ষায় আছি। মনে হচ্ছে তারাই আমার কম্পিউটার ঠিক করে দিতে পারবে। দোকানেও নিয়ে যেতে পারতাম, তবে কর্মহীন বিদেশের ছাত্রজীবনে মাঝে মাঝে এক হাজার রুবল খরচ করতেও চিন্তা করতে হয়। তার উপর আবার বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ঠিক মড়ার উপর খাড়ার ঘা।

এখানে সপ্তাহের প্রথম দিন শুরু হয় সোমবার থেকে। সকাল ৯ টায় ইউনিভার্সিটিতে ক্লাশ থাকলে আমাকে ভোর ৬ টায় উঠতে হয়। থাকি এপার্টমেন্ট সিস্টেম হোস্টেলে। কীচেন, বাথরুম এবং টয়লেট কম্যুনাল বলে লাইনের অপেক্ষায় থাকতে চাইনা। আজও তেমন দিন। ভেবেছিলাম দিনের সেকেন্ড হাফে কিছু কাজ সারতে এক বন্ধুকে নিয়ে এক সরকারি অফিসে যাব। তাকে সাত সকালে ফোন করতেই ঘুম জড়ানো কন্ঠে উত্তর “ আজ তো প্রাজ্‌দ্‌নিক (উৎসব), সব কিছু বন্ধ”। ততক্ষনে আমি সকাল ৯ টার ক্লাশ ধরার জন্য প্রায় তৈরী। ওর কথা ভেরীফাই করতে আরও দুই যায়গায় ফোন দিতেও একই রিপ্লাই। এবং জানা গেল আজকে সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট ক্লাশের টিচারই না-কি ক্লাশ করাবেন না। কী আর করা? শেষে নতুন করে দিনের প্ল্যান তৈরি।

এর মধ্যেই আর এক বন্ধুবর এর SMS ফ্রম কোলকাতা। “কেমন আছিস? খুব মিস করছি তোদের। সব খবর ভাল তো”? আরে, তুই তো সবই জানিস। ৫ বছর এখানে থাকার পর সবে এক মাস হলো ব্যাক টু দ্যা প্যাভেলিয়ন। বরং তোর খবর বল? কেমন আছিস? নিজে রান্না করে খেতে হচ্ছে না এই তো ঢের। বেশ কয়েক দিন আগে যখন দেশে মায়ের সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল, তখন মস্কো’তে জিনিস পাতির আকাশ ছোয়া দামের কথা বলছিলাম। সূর্যমুখি ৯০০ এম.এল যে তেলের দাম ৩৮ রুবল ছিল তা এখন ৫০ এর ও বেশি। শুনে মা হেসে বললেন “বাবা তুমি এত চিন্তা কর? এত বৈষয়িক হয়েছ”?

সত্যিই দেশে থাকতে এগুলো কখনো মাথায় আসেনি। এমনকি মস্কো’তেও দোকানী টাকা ফেরতের সময় খুচরো কয়েন দিলে আগে অন্যান্য রাশিয়ানদের মতো সেগুলো কাউন্টারেই ফেলে আসতাম। এখন প্রত্যেকটা কোপেক (১০০ কোপেক= ১ রুবল) গুনে নিচ্ছি। শুধু আমি না, আমার আশে পাশের প্রায় সবাই। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ঠেলায় আমরা বাবাজীর নাম জপছি।


শেয়ার করুন

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More